নিজস্ব প্রতিবেদক:
সমুদ্রে জেলেদের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ফিশিং বোটে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এখন সময়ের দাবি। জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সংশ্লিষ্ট সকল সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকালে কক্সবাজার জেলা পরিষদ হলরুমে কোস্ট ফাউন্ডেশন আয়োজিত বিশ্ব ব্যাংক ও পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) এর সহযোগিতায় বাস্তবায়নাধীন স্মার্ট প্রকল্পের আওতায় ‘সমুদ্রে জেলেদের নিরাপত্তা বৃদ্ধিতে করণীয়’ শীর্ষক কর্মশালায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
কর্মশালার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন স্মার্ট ড্রাই ফিশ উপ-প্রকল্পের প্রজেক্ট ম্যানেজার আজমল হুদা সিদ্দিকী।
তিনি বলেন, “বর্তমান সময়ে সাগরে মাছ ধরার সময় প্রাকৃতিক দুর্যোগ, নৌ দুর্ঘটনা এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে। স্মার্ট প্রকল্পের মাধ্যমে আমরা জেলেদের নিরাপত্তা সচেতনতা বৃদ্ধি, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের সক্ষমতা উন্নয়নে কাজ করছি। সমুদ্রে সহজ নেভিগেশন পদ্ধতি, আবহাওয়া পূর্বাভাস অনুসরণ, ভিএইচএফ রেডিও, ইকো-সাউন্ডোরের ব্যবহার, লাইফ জ্যাকেট ও অন্যান্য জীবনরক্ষাকারী সরঞ্জামের ব্যবহার, এবং দুর্ঘটনার সময় করণীয় বিষয়সমূহ নিয়ে একটি বিস্তারিত উপস্থাপনা প্রদান করা হয়।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা কক্সবাজার মোঃ নাজমুল হুদা।
বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ নৌবাহিনী বেইস স্বপ্নীল সিন্ধু কক্সবাজারের কমান্ডিং অফিসার ক্যাপ্টেন এম. হাবিবুল মওলা (এনডি, পিএসসি, বিএন), বাংলাদেশ সামুদ্রিক মৎস্য গবেষণা কেন্দ্র কক্সবাজারের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ আশরাফুল হক, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আবদুল হান্নান, কক্সবাজার সদর উপজেলার সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সুজয় পাল।
এছাড়াও, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কক্সবাজার পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর এসআইএম আকতার কামাল আজাদ, সাবেক কাউন্সিলর আশরাফুল হুদা সিদ্দিকী জামশেদ, কক্সবাজার জেলা ফিশিং বোট মালিক সমিতির সভাপতি দেলোয়ার হোসাইন, কুতুবদিয়া বোট মালিক সমিতির সভাপতি জয়নাল আবেদিন, সফল নারী উদ্যোক্তা নয়ন সেলিনা, জাহানারা ইসলাম, দৈনিক হিমছড়ির নির্বাহী সম্পাদক হুমায়ুন সিকদার, কক্সবাজার কন্ঠের সম্পাদক জসিম উদ্দিন ছিদ্দিকী ,বাংলাদেশ প্রতিদিনের মাল্টিমিডিয়া প্রতিনিধি মিজানুর রহমান প্রমূখ।
কর্মশালায় অতিথিরা গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার সময় প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও অন্যান্য আকস্মিক বিপদ মোকাবিলায় বোটগুলোতে ভিএইচএফ রেডিও, ইকো-সাউন্ডার, জিপিএস, আধুনিক সিগন্যালিং ব্যবস্থা এবং জীবনরক্ষাকারী সরঞ্জামের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। জেলেরা যেন সঠিক সময়ে আবহাওয়ার পূর্বাভাস পায় এবং সংকটের সময় বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডের সাথে দ্রুত যোগাযোগ করতে পারে, সে বিষয়ে একটি কার্যকর নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়। তাছাড়াও, জেলে কার্ড গ্রহণ, বোট নিবন্ধন, সমুদ্রে যাওয়ার আগে আবহাওয়ার পূর্বাভাস জানা, প্রতিটি বোট প্রয়োজনানুযায়ী লাইফ জ্যাকেটের মতো জীবন রক্ষাকারী উপকরণ রাখার জন্য গুরুত্বারোপ করা হয়।
উন্মুক্ত আলোচনা পর্বে অংশগ্রহণকারীরা সাগরে জেলেদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যা, ঝুঁকি এবং সম্ভাবনার বিষয় তুলে ধরেন, মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞাকালীন করণীয় এবং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
কোস্ট ফাউন্ডেশনের এই কর্মশালায় বাংলাদেশ নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ড, জেলা মৎস্য অধিদপ্তর, আবহাওয়া অধিদপ্তর, সামুদ্রিক মৎস্য গবেষণা কেন্দ্র এবং জেলা মৎস্যজীবী সমিতি, সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ মোট ৫১ জন প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে কোস্ট ফাউন্ডেশনের সিনিয়র কোঅর্ডিনেটর জিয়াউল করিম চৌধুরীর সমাপনী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে কর্মশালার সমাপ্তি ঘটে।